বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমাঃ ডকুমেন্টস
ইন্টারনেট ঘুরতে ঘুরতে একটা লেখা পড়া শুরু করেছিলাম হেডলাইনটা পড়ে। শুরু করার পর শেষ না করে পারলাম না। লেখাটা নিঝুম মজুমদার নামের এক ব্লগার এর। তার লেখাটাই তুলে দিচ্ছি, আমার মত কেউ যদি উপকৃত হয়।
“সাধারণ ক্ষমার” প্রসঙ্গ এলেই বঙ্গবন্ধুর এই ক্ষমাকে মিথ্যে ও পানি মিশিয়ে চমৎকার করে মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে এক পা পেছান না। সত্যিই কি বঙ্গবন্ধু রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন? যদি দিয়েই থাকেন, তবে কাদের ক্ষমা করেছেন? আসুন সেই বিখ্যাত এক্ট অফ ক্লেমেন্সি’র ডকুমেন্টটি দেখে নেই-
১৯৭৩ সালের ৩০ শে নভেম্বর এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করেন বঙ্গবন্ধু।
উপরের এই সাধারন ক্ষমার বাংলা ব্যখ্যাঃ
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ৫নং ধারার (ক) অনুচ্ছেদে যে বিধান রাখা হয় তাতে সত্যিকার অর্থে কোন যুদ্ধাপরাধী মুক্তি পাওয়ার কথা নয়। কারণ ঘোষণার ৫ নং ধারায় বলা হয়েছে
” যারা বর্ণিত আদেশের নিচের বর্ণিত ধারাসমূহে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরোদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের বিরোদ্ধে নিম্নোক্ত ধরা মোতাবেক কোনটি অথবা সবকটি অভিযোগ থাকবে
“(১) ১২১ (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), (২) ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), (৩) ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), (৪) ৩০২ (হত্য), (৫) ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), (৬) ৩৬৩ (অপহরণ), (৭) ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) (৮) ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ), (৯) ৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), (১০) ৩৭৬ (ধর্ষণ), (১১) ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), (১২) ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), (১৩) ৩৯৫ (ডাকাতি), (১৪) ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি), (১৫) ৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাত্বক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), (১৬) ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধণ), (১৭) ৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), (১৮) ফৌজদারী দন্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতি সাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান। এসব অপরাধী কোনভাবেই ক্ষমার যোগ্য নন।”
উল্লেখ্য যে, সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার পরেও প্রায় ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী কারাগারে বন্দী ছিলেন।
আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্য করুন, এই সাধারন ক্ষমার ডকুমেন্টস-এ একটি কথা লেখা রয়েছে যে, যদি অপরাধী অনুপস্থিত থাকে তাহলে কি হবে। সেখানে বলা আছে যে সেক্ষেত্রে সেসব অভিযুক্তদের সাধারণ ক্ষমার জন্য আবেদন করতে হবে এবং তাদের আত্নসমর্পন করতে হবে, এবং সেই ক্ষেত্রেই তারা সাধারণ ক্ষমার জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন যদি না তাদের বিরুদ্ধে উপরে উল্লেখিত অপরাধের অভিযোগ না থাকে।
এখন কথা হলো, ১৯৭১ সালে আমার জানামতে নীচের ৩ জনের নামে মামলা হয়েছিলো দালাল আইনে যারা এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) ১৯৭৩ এর মাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে কারাগারে বন্দী রয়েছে।
তাদের নাম ও মামলার বিবরণ নীচে দেয়া হোলোঃ
ক) রাজাকার কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর প্রথম মামলা হয় ১৯৭২ সালে। মামলার নম্বর হচ্ছে- (৫)৭২, জি আর নং- ২৫০ (২) ৭২। মামলা করেন শহীদ বদিউজ্জমানের ভাই হাসানুজ্জামান। উল্লেখ্য যে, কামারুজ্জামান তখন পলাতক আসামী ছিলো।
খ) সাকা চৌধুরীর নামে ১৯৭২ সালে দালাল আইনে চট্রগ্রাম জেলার হাট হাজারী থানায় ১৩/৪/১৯৭২ তারিখে ১৭ নং মামলা দায়ের হয়। রাউজান থানা ৪১(১)৭২ নং এবং ৪৩(১)৭২ নং মামলা দায়ের করা হয়।
গ) পিরোজপুরের মেধাবী ছাত্র গণপতি হালদার হত্যাকান্ডের একজন অন্যতম আসামী দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেইল্যা। ১৯৭২ সালে তার নামে মামলা ৩০২ ও দালাল আইনের ১১(ক) ধারায়।
ইতিহাস বলে এবং ডকুমেন্টস বলে যে, উক্ত ৩ জন কখনোই সাধারণ ক্ষমার জন্য আবেদন করেনি। এবং তারা পলাতক আসামী হিসেবেই ১৯৭৫ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর এই দালাল আইন বাতিল হবার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিলো।
![]()
![]()
![]()
এক নজরে যুদ্ধপরবর্তী দালালদের বিচারঃ
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দালালীর জন্য ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আটক হয় – ৩৭ হাজার ৪ শত ৯১ জন
ট্রাইবুনাল গঠিত হয়- ৭৩ টি ( সারা বাংলাদেশে )
১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত উক্ত ট্রাইবুনাল গুলোতে দায়ের করা মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মোট ২ হাজার ৮ শত ৪৮ টি মামলা ।
দোষী প্রমাণিত হয় – মোট ৭৫২ জন
মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়ঃ প্রায় ২০ জনেরও বেশী।
মামলায় খালাশ পায় – ২ হাজার ৯৬ জন ।
আইনগত ব্যাবস্থায় দ্রুততা আনার জন্য সে সময় ৭৩ টি ট্রাইবুনালের ব্যাবস্থা করা হলেও প্রতিদিন ৩-৪ টির বেশী মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি এবং মাসে যার পরিমাণ ছিলো ১৩০ টির মত মামলা ।
শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন কিসের ভিত্তিতেঃ
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমা প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। লক্ষ করি বর্তমান সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদ (১৯৭২ সালের সংবিধানের ৫৭ নং অনুচ্ছেদ)
” The President shall have power to grant pardons, reprieves and respites and to remit, suspend or commute any sentence passed by any court, tribunal or other authority.”
অর্থাৎ ” কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দন্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দন্ড মওকুফ স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।”
সুতরাং বলা যায়, শুধুমাত্র শাস্তি এবং দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার আছে রাষ্ট্রপ্রধানের। কিন্তু যারা শাস্তি কিংবা দন্ড পাননি তাদেরকে কি সাধারণ ক্ষমা করা যাবে?
যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ ক্ষমার নিদর্শন অন্যান্য দেশেঃ
সাধারণ ক্ষমার এমন নিদর্শন কম্বোডিয়া ট্রায়ালের ক্ষেত্রেও দেখা যায় । ১৯৯৬ সালে রাজা নরোদম সিহানুক রেভ্যুলুশনারী ট্রাইবুনালে খেমাররুজ নেতা মানে পলপট সরকারের বিদেশ মন্ত্রী ইয়েং স্যারির দন্ডের মার্জনা ঘোষনা করেন । তবে এই ক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে , কম্বোডিয়ায় দন্ড পাওয়ার পর যুদ্ধাপরাধী স্যারির দন্ড মওকুফ করা হয়েছে কিন্তু ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী ৫৭ নং অনুচ্ছেদে শুধু মাত্র দন্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা ঘোষনার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির থাকলেও , বঙ্গবন্ধু দন্ডিত হননি এমন ব্যাক্তিদের সাধারণ ক্ষমা করেছেন । এই যুক্তিতে সাধারণ ক্ষমা ঘোষনাটিকেও বাদ করা যেতে পারে অসংবিধানিক সূচিত করে ।
সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার প্রাক্কালে কিছু জাতীয় ঘটনার দিকে তাকাইঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন “স্বাধীনতাত্তোর দালালদের বিচার প্রক্রিয়াঃ একটি পর্যালোচনা” শীর্ষক তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধে লিখেন – “যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ পুনর্গঠনে আওয়ামীলীগ সরকারের দূর্বলতার সুযোগে পাকিস্থান আমলই ভালো ছিলো এই প্রচার চালানো হয় এবং এ পর্যায়ে “মুসলিম বাংলা আন্দোলন” বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশ-বিরোধী তttৎপরতায় লিপ্ত হয় । ধর্ম ভিত্তিক দলগুলো পিকিংপন্থী দলগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয়ে দালালদের মুক্তির দাবী তোলে ।
১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে নির্বাচনের প্রাক্কালে দালাল ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সমর্থন পেতে ন্যাপ (ভাসানী) এবং আতাউর রহমানের জাতীয় লীগসহ আওয়ামী বিরোধী পিকিংপন্থী জোট নির্বাচনের আগেই দালালদের মুক্তি দাবী করে । এ সময় মাওলানা ভাসানী হুমকি দেন যে, ১৯৭২ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে দালাল আইন বাতিল না করলে তিনি দূর্বার আন্দলোন গড়ে তুলবেন”
বঙ্গবন্ধুর সাধারন ক্ষমার পর যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তৎকালীন সময়ে দায়ের করা হয় নি তাদের ছাড়া সবার বিচারই বঙ্গবন্ধু নির্মম ভাবে নিহত হবার আগ পর্যন্তই চলছিলো।
আসুন নীচে তার কয়েকটি প্রমাণ দেখিঃ
১) ইত্তেফাকের একটি রিপোর্টঃ ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখে,
দুইজন আলবদরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
“ঢাকার ৩য় স্পেশাল ট্রাইবুনাল জজ জনাব এস এম মাহমুদ গত শনিবার হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করার দায়ে আল বদর মকবুল হোসেন , আয়ুব আলী ও আতিয়ার রহমানকে দোষী সাব্যাস্ত করিয়া যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন । আসামী আতিয়ার রহমান পলাতক বিধায় তাহার গ্রেফতারের দিন হইতে রায় কার্যকরী হইবে” (সংক্ষেপিত)
২) দৈনিক পূর্বদেশের একটি রিপোর্টঃ ১৯৭৪ সালের ২-এপ্রিল
দালালীর দায়ে বরিশালে ১৪ জনের মৃত্যুদন্ড
“বরিশাল জেলার সেশন জজ জনাব আর কে বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনীর সাথে সহযোগিতা ও হত্যার অভিযোগে আব্দুল মালেক বেগ সহ আরো ১৪ ব্যাক্তিকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেছেন । আদালতের কার্যবিধিতে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২২ শে আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অভিযুক্তরা মেহেদীগঞ্জ থানার ভাষাঞ্চর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের ততকালীন কোষাধ্যক্ষ জবনাব আব্দুল বারী মোল্লার দোকানে চড়াও হয় । তারা আব্দুল বারী মোল্লাকে হত্যা করে ও দোকান লুট করে ।
৩) দৈনিক সংবাদের একটি রিপোর্টঃ ১৯৭৫ সালের ২০ শে এপ্রিল
পাক দালালীর দায়ে দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
“কুমিল্লা জেলার দায়রা জজ এবং ১ নং বিশেষ আদালতের সভাপতি জনাব কায়সার আলী সম্প্রতি দালালীর দায়ে দু;ব্যাক্তিকে যাবজ্জেবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন । মামলার বিবরণে প্রকাশ শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদ তদানীন্তন পাকিস্তান আর্মির হাবিলদার এবং ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন । ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাক হানাদার বাহিনী বাঙ্গালীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে তিনি পালিয়ে এসে কিছু কাল বুড়িচং থানার আরাম আনন্দপুরস্থ তার নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন । পরে তিনি ভারতে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের যোগ দেন । কিন্তু দৈহিক অপারগতার দরুণ তিনি আবার নিজ বাড়ীতে ফিরে লুকিয়ে থাকেন । ১৯৭১ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর কথিত বিবাদীদ্বয় কয়েকজন রাজাকার নিয়ে পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর লোকেরা রফিক উদ্দিনের বাড়ী ঘেরাও করে এই বাড়ীর আব্দুর রশিদকে তার ঘর থেকে বের করে আনে । পরে বিবাদী দু’জন সহ পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরেরা রফিক উদ্দিনের ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে বের করে এনে বিবাদী আব্দুল হামিদের সম্মুখে একত্রিত করে উক্ত মামলার সরকার পক্ষের মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং সরাক্র পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন সরকারী উকিল কাজী হাচিবুর রহমান । আদালত বিবাদীদেরকে বাংলাদেশ ফৌজদারী দন্ড বিধির ৩৬৪/৩৪ ধারার সাথে রাষ্ট্রপতির আদেশ ৮ এর ১১(এ) মতে দোষী সাব্যাস্ত করেন এবং উপোরোক্ত কারাদন্ডের নির্দেশ দেন” (আসামী দ্বয় হচ্ছেন- আব্দুল হামিদ আজিজুল্লাহ ও আব্দুস সোবাহান । উল্লেক্ষ্য মামলা চলাকালীন সময়ে আব্দুস সোবাহানের মৃত্যু হয় )
উপরের তিনটি পত্রিকার রিপোর্ট দেয়ার মানে হচ্ছে এই , যদি ৩০ শে নভেম্বর ১৯৭৩ সালের সাধারণ ক্ষমাতে সব রাজাকার রা মাফ-ই পেয়ে যেতো , তবে সেই তারিখের পর দুই বছর পর্যন্ত কিভাবে জাজ সাহেব রায় দিলেন বা মামলা চলেছিলো?
কে এই দালাল আইন ১৯৭২ সাল বাদ করে দিয়েছিলেন?
দালাল আইন ১৯৭২, তৎকালীন সামরিক শাসক, রাজাকারদের পেয়ারা দোস্তk জিয়ার নির্দেশে বাতিল করা হয় ১৯৭৫ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর। নীচে তার ডকুমেন্টস সহ প্রমাণ দেয়া হোলো-

সকল তথ্য এবং উপাত্ত সহ সাধারণ ক্ষমাজনিত ঘটনাটি নিয়ে যে মিথ্যাচার জামাত, বি এন পি সহ রাজাকারদের সকল শুভাকাঙ্খীরা করে এসেছে এতটি বছর, তার সকল জবাব আজ দিলাম। আশা করি তাদের মিথ্যের জবাব আমি প্রমাণ সহ দিতে পেরেছি।
[ অসংখ্য ধন্যবাদ নিঝুম মজুমদারকে ]
তোমার খোলা হাওয়া…
তোমার খোলা হাওয়া, লাগিয়ে পালে॥
তোমার খোলা হাওয়া
টুকরো করে কাছি,
আমি ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি।
তোমার খোলা হাওয়া, লাগিয়ে পালে।
তোমার খোলা হাওয়া
সকাল আমার গেল মিছে,
বিকেল যে যায় তারই পিছে গো॥
রেখো না আর, বেঁধো না আর কূলের কাছাকাছি
আমি ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি
তোমার খোলা হাওয়া, লাগিয়ে পালে।
তোমার খোলা হাওয়া
মাঝির লাগি আছি জাগি সকল রাত্রিবেলা
ঢেউগুলো যে আমার নিয়ে করে কেবল খেলা ॥
ঝড়কে আমি করব মিতে
ডরব না তার ভ্রুকুটিতে॥
দাও ছেড়ে দাও, ওগো আমি তুফান পেলে বাঁচি
আমি ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি
তোমার খোলা হাওয়া, লাগিয়ে পালে।
তোমার খোলা হাওয়া…
মহান রবিঠাকুর…
কৃষ্ণ কলি।।
কৃষ্ণ কলি আমি তারে বলি
কালো তারে বলে গায়ের লোক
মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে
কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখ।
ঘোমটা মাথায় ছিলনা তার মোটে
মুক্ত বেণী পিঠের পরে লোটে।।
কালো? তা সে যতই কালো হোক
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ।
ঘন মেঘে আধার হল দেখে
ডাকতেছিল শ্যামল দুটি গাই
শ্যামা মেয়ে ব্যস্ত ব্যকুল পদে
কুটির হতে ত্রস্তু এল তাই
আকাশ পানে হানি যুগল ভুরু
শুন্যে বাড়ে মেঘের গুরু গুরু
কালো? তা সে যতই কালো হক
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ।
পূবে বাতাস এলো হঠাৎ ধেয়ে
ধানের ক্ষেতে খেলিয়ে গেল ঢেউ,
আলের ধারে দাড়িয়ে ছিলেম একা
মাঠের মাঝে আর ছিল না কেউ।
আমার পানে দেখলো কিনা চেয়ে
আমিই জানি আর জানে সেই মেয়ে,
কালো? তা সে যতই কালো হোক
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ।
এমনি করে কালো কাজল মেঘ
জ্যৈস্ট মাসে আসে ইশাণ কোণে
এমনি করে কালো কোমল ছায়া
আষাঢ় মাসে নামে তমাল বনে।
এমনি করে শ্রাবণ রজনিতে
হঠাৎ খুশি ঘনিয়ে আসে ছিতে
কালো? তা সে যতই কালো হোক
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ।
কৃষ্ণ কলি আমি তারেই বলি
আর যা বলে বলুক অন্য লোক
দেখেছিলেম ময়না পাড়ার মাঠে
কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখ।
মাথার পরে দেয়নি তুলে বাঁস
লজ্জা পাবার পায়নি অবকাশ
কালো? তা সে যতই কালো হক
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ
কৃষ্ণ কলি আমি তারেই বলি।।
একটি ছেলে… (৩)
৮৮’র বন্যার পর তপুদের কোয়ার্টার ছেড়ে চলে যেতে হয়। ওরা তখন ধলপুরে এক পাঁচতলা বাড়িতে ওঠে। এই বাসাটা মোটামুটি বড়। তপু সারাদিন এই ঘর ঐ ঘর ছোটাছুটি করতো। বাবা মা ভাই বোন সবাইকে অনেক যন্ত্রণা দিত। তপুদের বাসার ডাইনিং টেবিলটা ছিল তার প্রাইভেট ঘর। সব খেলনা নিয়ে সে ডাইনিং টেবিলের নিচে গিয়ে খেলতো। রান্না ঘর থেকে সে প্রায়ই বাটিতে করে গুড়ো দুধ আর চিনি চুরি করে নিয়ে তার প্রাইভেট ঘর এ গিয়ে খেত। তাছাড়া অপরাধ করলে তার লুকানোর জায়গা ছিল সেই ডাইনিং টেবিলের ঘর। তাদের সেই বাসাটার বারান্দা ছিল অনেক বড়ো। বর্ষার সময় বারান্দায় পানি জমে পিচ্ছিল হয়ে যেত। ওরা তিন ভাই বোন মিলে সেখানে অনেক মজা করে বৃষ্টিতে ভিজতো। ওদের একটা খেলা ছিল – গাড়িগাড়ি খেলা। একজন পিচ্ছিল মেঝেতে বসতো আর আরেকজন পিছন থেকে ধাক্কা দিত। এভাবে বারান্দার এক দিক থেকে আরেক দিক। অনেক মজার খেলা ছিল এটা। কিন্তু মার বকুনির কারনে বেশিক্ষন খেলতে পারতো না।
ধলপুরে ওদের বাসার পাশে একটা বড় খেলার মাঠ ছিল। প্রতিদিন বিকালবেলা ওরা খেলতে যেত। একদিনের স্মৃতি তপুর বিশেষভাবে মনে পরে। সেদিন সে মেজভাইয়ের সাথে মাঠে গেছে, অনেক ছেলেপেলের দল খেলছিল ওইখানে। বড়দের ফুটবল খেলা হচ্ছিল, হঠাৎ একটা পাঁচ নম্বর ডিয়ার বল তপুর গালে এসে লাগে। সাথে সাথে তপু মাটিতে ছিটকে পড়ে। তপুর ছোট্ট গাল সাথে সাথে লাল হয়ে যায়। মাঠের বড় ভাইরা এসে ওকে আদর করতে লাগল। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে তপু একটুও কাদলো না। মেজ ভাই ওকে সাথে সাথে বাসায় নিয়ে আসলো। বাসায় এসে যেই না ওর আম্মুকে দেখলো, আর ওর কান্না দেখে কে। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না যাকে বলে। তপুর মার অনেক সময় লেগেছে ওর কান্না থামাতে।
ভালবাসা মেঘ ।।
মেঘ ঝরে ঝরে বৃষ্টি নামে
বৃষ্টির নাম জল হয়ে যায়
জল উড়ে উড়ে আকাশের গায়ে
ভালবাসা দিয়ে বৃষ্টি সাজায়।
ইচ্ছে গুলো ভবঘুরে হয়ে
চেনা অচেনা হিসেব মিলায়
ভালবাসা তাই ভিজে একাকার
ভেজা মন থাক রদের আশায়।
ইচ্ছে হলে ভালবাসিস, না হয় থাকিস
যেমন থাকে স্নিগ্ধ গাংচিল।
চুপি চুপি রোদ, উচুনিচু মেঘ
সারিসারি গাড়ি, দূরে দূরে বাড়ি
নিভু নিভু আলো, চুপ চুপ সব
কনকনে শিতে চমচমে ভয়…
সংলাপ সব পরে থাক
বৃষ্টিতে মন ভিজে যাক
ভালবাসা মেঘ হয়ে যাক…
ঘুরে ঘুরে যদি, দূরে দূরে তবু
মেঘে মঘে থাক ভালবাসা…
ইচ্ছে হলে ভালবাসিস, না হয় থাকিস
যেমন থাকে স্নিগ্ধ গাংচিল।।
ঝিরিঝিরি হাওয়া কৃষ্ণচূড়ায়
লাল লাল ফুলে ছুটে ছুটে চলা
আধ আল ছায়া, গুন গুন গাওয়া
পুরানো দিনের গল্প বলা
সংলাপ সব পরে থাক
বৃষ্টিতে মন ভিজে থাক
ভালবাসা মেঘ হয়ে যাক
ঘরে ফেরা পথে, নিরবে নিভ্রিতে
মেঘে মেঘে থাক ভালবাসা
ইচ্ছে হলে ভালবাসিস, না হয় থাকিস
যেমন থাকে স্নিগ্ধ গাংচিল… ।।
song: SIRONAMHIN
album: Bondho Janala
lyric & tune: Zia
একটি ছেলে…(২)
কিছু বুঝে ওঠার আগেই তপু পানিতে হবুডুবু খেতে লাগলো আর হাতপা ছুরতে লাগলো। ওর তিন ভাইবোন তখনো গভীর ঘুমে। তপুর মা রান্নাঘর থেকে শুনতে পেল পানিতে কেমন যেন খলবল শব্দ হচ্ছে। প্রথমে বুঝতে না পারলেও কেমন যেন সন্দেহ হল। কিসের শব্দ দেখার জন্ন্য শোবার ঘরে গেল। ততক্ষণে তপু পেট ভরে পানি খেয়ে ফেলেছে। মার মাথায় তো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। তারাতারি তপুকে পানি থেকে বুকে তুলে নিয়ে বিশাল এক হুঙ্কার দিল তার ভাইবোনদের উদ্দেশ্যে। ওরা ঘুম থেকে উঠে কিছুই বুঝতে পারলো না। দেখলো তপু ভিজে চুপচুপা হয়ে গেছে। তপুর কান্নাকাটি আর থামানো যায় না। অনেক আদর করে তাকে শান্ত করা হলো।
তপুর অবশ্য এতোকিছু মনে নেই। শুধু মনে আছে বন্যার পানি ছিল অনেক ময়লা। পঁচা ব্যং, ইদুঁর আর বাথরুমের ময়লা ভেসে যাচ্ছিল সেই পানিতে। যাই হোক, সেই সৃতি আর মনেও করতে চায় না তপু। এই ঘটনার পর তপুর বাবা, বন্যার্ত এলাকা ছেড়ে পুরানো ঢাকার সেই কোয়ার্টার এসে উঠে। এখানেই তপুর বেড়ে উঠা।
কিছু সৃতির মধ্যে মনে পড়ে মায়ের কাছথেকে একটাকা আটআনা যাই পাক সেটা নিয়ে মানিক কাকার দোকানে আচার কেনা। মানিক কাকার দোকান ছিল কোয়ার্টারের বউন্ডারির ভেতরে। কিন্তু তপুর কাছে মনে হত অনেক দূর। প্রায়ই তপু মানিক কাকার দোকানে গিয়ে বসে থাকত। দোকানদারি করতে তপুর অনেক ভাল লাগতো। সে তখন ঠিক করে রেখেছিল বড় হয়ে সে দোকানদার হবে।
একটি ছেলে … (১)
ছেলেটির নাম তপু। থাকে পুরাণো ঢাকার এক সরকারি কোয়াটার এ। বাবা সরকারি অফিসার। পরিবারে মা ছাড়াও আর দুই ভাই আর এক বোন আছে। সবার চেয়ে ছোট বলে সবার অনেক আদর পায় সে। খুব ছোটবেলার কথা তার বিশেষ কিছু মনে নেই, কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া।
তপুর জন্ম হয় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। ৮৮’র বন্যার সময় ওর বয়স দুই বছর। যাত্রাবাড়ীতে যে ভাড়া বাসায় তারা থাকতো সেখানে তখন এক হাটু পানি উঠে গিয়েছিল। ওরা থাকত এক তলায়। চার ইট উচু করতে হয়েছিল প্রতিটা ঘরের শোবার খাট। একদিন দুপুরবেলা ওরা চারভাইবোন একসাথে ঘুমিয়েছিল, তপু সবার শেষে তারপর তার বোন তারপর তার বড়ভাই এবং মেজভাই। সবাই গভীর ঘুমে শুধু তপু জেগেছিল। কারন তার দুপুরে ঘুম আসেনা। মার কারনে তাকে প্রতিদিন দুপুরবেলা ঘুমাতে যেতে হয়। বন্যার পানির কারনে ছুটোছুটি করার উপায় নাই। কি আর করা বাধ্য হয়ে শুয়ে থাকা। তপুর মা তাকে শুইয়ে দিয়ে রান্না ঘরে গেছে রান্না করতে। তপুর তিনভাইবোন গভীর ঘুমে। ওরা খুব চাপাচাপি করে শুয়েছিল। বড়ভাই ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পাশ ফিরলো আর সেই ধাক্কায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তপু পরে গেল পানিতে। …
মন ভাল নেই… by topu
মন ভাল নেই
বল মন কিছুতেই
তবু বুঝে নেবে কে আছে
দেখো কেউ কাছে নেই
তবু তুমি এগুলেই
বাঙ্গা পথ সাথি কে হবে?
যদি কখনো আমায় মনে পরে যায়
কাল দুয়ার আকাশে আমি তারাময়
যদি কখনো ছুয়ে দিতে ইচ্ছে হয়
চাদর হয়ে আজ জরাব তোমায়।
এই বল কে দেখাবে পথ তোমাকে
যদি জাও হারায়ে এই শহরে
হাওয়াতে এল চুল মুখে এসে পরে
যদি না থাকি তা কে সরাবে।
যদি কখনো আমায় মনে পরে যায়
কাল দুয়ার আকাশে আমি তারাময়
যদি কখনো ছুয়ে দিতে ইচ্ছে হয়
চাদর হয়ে আজ জরাব তোমায়।
মন ভাল নেই
বল মন কিছুতেই
তবু বুঝে নেবে কে আছে
দেখ কেউ কাছে নেই
তবু তুমি এই এগুলেই
ভাঙ্গা পথ সাথি কে হবে?
শুরুর কথা।
আমি এই প্রথম ব্লগ লেখা শুরু করলাম। আসলে ঠিক মত কিভাবে লিখতে হয় তা জানিনা। অভ্র সফটওয়্যারটা অনেক হেল্প করছে, বাংলা লেখা অনেক সহজ হয়েছে। আনেক দিন থেকে আমার লেখালেখি করার ইছা। ঠিক করেছি এখানে একটা উপন্নাস লিখব। দেখি কতদিন লিখতে পারি। বন্ধু + কলিগ মাহমুদ ফয়সাল অনেক লেখালিখি করে এবং অনেক ভাল লেখে। ওর মত লেখা লিখতে গেলে অনেক দিন ধরে লিখতে হবে।
আমার অনেক ব্যস্ততা। অফিস, পড়াশুনা, প্রিওজনকে সময় দেয়া, সবমিলিয়ে নিজের জন্য সময় বের করা অনেক কঠিন। তবুও সাহস করে শুরু করলাম। দেখাযাক…।


